নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলনে ড্রেজার ও সেইভ মেশিনসহ যেকোনো ধরনের যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, সেটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে আপাতত যাদুকাটা বালুমহালে বালু উত্তোলনে যন্ত্র ব্যবহারের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকছে না।
গত ১৯ আগস্ট ২০২৫, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক রিটের শুনানিকালে ইজারা পদ্ধতির আড়ালে বোমা বা সেইভ মেশিন জাতীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেন। আদালত তখন মত দেন, বালু আইন ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘন না করে এবং আশপাশের বাড়িঘর ও পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতি না করে ইজারা পদ্ধতি পরিচালিত হতে হবে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচরের বাসিন্দা খোরশেদ আলমের দায়ের করা রিট (নং: ৯৯১৭/২০২৪) এর ভিত্তিতেই এ রায় আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বড় অঙ্কে ইজারা হয়ে এলেও ইজারাদাররা নীতিমালা অনুযায়ী সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে যন্ত্র ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করছিলেন। সর্বশেষ গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুটি বালুমহাল ১০০ কোটি ৮ লাখ টাকায় ইজারা হলেও আদালতে মামলা থাকায় বালু উত্তোলনে যেতে পারেননি ইজারাদাররা।
হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে দেওয়ানি আবেদন (আপিল নং: ৩৯৭৯/২৫) করেন ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মো. জিনান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. শাহ রুবেল আহমেদ এবং মেসার্স তাহিয়া স্টোন ক্রাশারের স্বত্বাধিকারী মো. নাছির মিয়া।
এই আবেদনের শুনানি শেষে, গত ২৬ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ১৯ আগস্টের রায়টির কার্যকারিতা আগামী ১২ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত স্থগিত করেন। ফলে এ সময় পর্যন্ত যাদুকাটা নদীর বালুমহালে পূর্বের নিয়মেই বালু উত্তোলনের প্রক্রিয়া পরিচালনার সুযোগ তৈরি হলো ইজারাদারদের জন্য।